বুধবার । ২৫শে মার্চ, ২০২৬ । ১১ই চৈত্র, ১৪৩২

সৌদি যুবরাজ ইরানের বিরুদ্ধে আমাদের সঙ্গেই লড়ছেন: ট্রাম্প

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প ইঙ্গিত দিয়েছেন যে, সৌদি আরবের বাস্তব ক্ষমতাধর নেতা, ক্রাউন প্রিন্স মোহাম্মদ বিন সালমান (এমবিএস) ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের পদক্ষেপকে উৎসাহিত করছেন। তিনি এমবিএসকে ‘একজন যোদ্ধা’ বলে উল্লেখ করে বলেন, তিনি আমেরিকার প্রচেষ্টার সঙ্গে লড়ছেন। নিউ ইয়র্ক টাইমস-এর এক প্রতিবেদন প্রকাশের পর তিনি এমন মন্তব্য করেন।

ওই প্রতিবেদনে দাবি করা হয় যে, সৌদি যুবরাজ মনে করেন, যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইলের সামরিক অভিযান মধ্যপ্রাচ্যকে নতুনভাবে গড়ে তোলার জন্য একটি ‘ঐতিহাসিক সুযোগ’ এবং ট্রাম্পের উচিত তেহরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়া। এ নিয়ে ওভাল অফিসে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় ট্রাম্পকে জিজ্ঞাসা করা হয়, এমবিএস কি তাকে ইরান সম্পর্কিত নির্দিষ্ট কিছু করতে উৎসাহ দিচ্ছেন? তিনি জবাব দেন, ‘হ্যাঁ, তিনি একজন যোদ্ধা। বলতে গেলে তিনি আমাদের সঙ্গেই লড়ছেন। এ খবর দিয়েছে অনলাইন এনডিটিভি।

নিউ ইয়র্ক টাইমস-এর প্রতিবেদনে বলা হয়, এক সপ্তাহ ধরে সৌদি যুবরাজ ইরানের কট্টর শিয়া শাসনব্যবস্থাকে ভেঙে ফেলার লক্ষ্যে একটি দৃঢ় ও দীর্ঘমেয়াদি অভিযানের পক্ষে জোর দিচ্ছেন। এ বিষয়ে অবগত ব্যক্তিরা জানান, এমবিএস ট্রাম্পকে বলেছেন, উপসাগরীয় অঞ্চলের জন্য ইরান একটি দীর্ঘমেয়াদি হুমকি, যা কেবল সরকার পরিবর্তনের মাধ্যমেই দূর করা সম্ভব। এই মতামত ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর বক্তব্যের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ। তিনি ইরানকে মধ্যপ্রাচ্যের জন্য দীর্ঘমেয়াদি হুমকি বলে মনে করেন। তবে বিশ্লেষকদের মতে, ইসরাইল হয়তো দুর্বল বা অভ্যন্তরীণভাবে অস্থিতিশীল তেহরান সরকার মেনে নিতে পারে। কিন্তু সৌদি আরব আশঙ্কা করে, যদি ইরান রাষ্ট্র হিসেবে ভেঙে পড়ে, তাহলে আঞ্চলিক বিশৃঙ্খলা তৈরি হতে পারে, মিলিশিয়াদের ক্ষমতায়ন হতে পারে এবং উপসাগরীয় দেশগুলোর জন্য সরাসরি নিরাপত্তা ঝুঁকি তৈরি হবে।

সাম্প্রতিক দিনে ট্রাম্প যুদ্ধের ভবিষ্যৎ নিয়ে মিশ্র সংকেত দিয়েছেন। কখনও বলেছেন যুদ্ধ দ্রুত শেষ হতে পারে, আবার কখনও পরিস্থিতি আরও তীব্র হওয়ার ইঙ্গিত দিয়েছেন। সোমবার তিনি সামাজিক মাধ্যমে লিখেছেন, তার প্রশাসন ইরানের সঙ্গে সম্পূর্ণ ও চূড়ান্ত সমাধান নিয়ে ফলপ্রসূ আলোচনা করেছে। যা তেহরান অস্বীকার করেছে। এদিকে সৌদি ও আমেরিকান সরকারের শীর্ষ কর্মকর্তারাও উদ্বিগ্ন, যদি সংঘাত দীর্ঘস্থায়ী হয়, তবে ইরান সৌদি তেল স্থাপনায় আরও ভয়াবহ হামলা চালাতে পারে এবং যুক্তরাষ্ট্র একটি অন্তহীন যুদ্ধে জড়িয়ে পড়তে পারে।

সর্বসমক্ষে সৌদি কর্মকর্তারা খুব সতর্ক অবস্থান নিয়েছেন। এক সরকারি বিবৃতিতে তারা শান্তিপূর্ণ সমাধানের প্রতি সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করে বলেন, বেসামরিক অবকাঠামো রক্ষা করা এবং চলমান হামলা বন্ধ করাই তাদের প্রধান অগ্রাধিকার।

তারা আরও বলেন, ইরান গম্ভীর কূটনৈতিক সমাধানের বদলে বিপজ্জনক সীমা অতিক্রমের পথ বেছে নিয়েছে। এতে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়, তবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয় ইরান নিজেই।

সৌদি যুবরাজ তিনি নিজেই বিরোধীদের দমনে কঠোর পদক্ষেপ নিয়েছেন, ট্রাম্পের সঙ্গে ভালো সম্পর্ক বজায় রেখেছেন এবং পূর্বেও তার সিদ্ধান্তে প্রভাব ফেলেছেন বলে ধারণা করা হয়। মার্কিন কর্মকর্তাদের মতে, এমবিএস ট্রাম্পকে ইরানে সেনা পাঠিয়ে জ্বালানি অবকাঠামো দখল এবং সরকারকে ক্ষমতা থেকে সরিয়ে দেয়ার কথা বিবেচনা করতে বলেছেন।

সর্বশেষ প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের সেনাবাহিনী শিগগিরই ৮২তম এয়ারবর্ন ডিভিশন থেকে কমপক্ষে ১০০০ সেনা মধ্যপ্রাচ্যে পাঠানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে। এই ইউনিটটিকে জরুরি প্রতিক্রিয়া বাহিনী হিসেবে ধরা হয় এবং স্বল্প সময়ের নোটিশেই মোতায়েন করা যায়।

সৌদি সরকারের ভাবনার সঙ্গে পরিচিত বিশ্লেষকরা জানান, এমবিএস সম্ভবত যুদ্ধ এড়িয়ে চলতে চেয়েছিলেন। তবে তিনি আশঙ্কা করছেন, এখন যদি মার্কিন বাহিনী পিছু হটে, তাহলে সৌদি আরব ও পুরো মধ্যপ্রাচ্যকে আরও সাহসী ও ক্ষুব্ধ ইরানের মুখোমুখি একাই হতে হবে।

এমন পরিস্থিতিতে ইরান সময় সময় হরমুজ প্রণালি বন্ধ করে দিতে পারে। যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে ইরানের পাল্টা হামলা কার্যত এই প্রণালিকে অচল করে দিয়েছে। ফলে পুরো অঞ্চলের জ্বালানি খাত মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।

 




আরও সংবাদ

খুলনা গেজেটের app পেতে ক্লিক করুন